1. bappy.ador@yahoo.com : Admin : Admin admin
  2. hostctg@gmail.com : desk report :
  3. sohagkhan8933@gmail.com : editor editor : editor editor
  4. spapon116@gmail.com : jamunar-barta :
  5. mamunshekh432@gmail.com : reporter :
  6. sawontheboss4@gmail.com : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
বা’স’র রা’ত তাই চি’ৎকা’র করেনি ছোট্ট রিমি
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

বা’স’র রা’ত তাই চি’ৎকা’র করেনি ছোট্ট রিমি

Jamuna Desk Reporter
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ২৭৯ Time View

সময় রাত ২টা ৪৫ মি’নিট। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বি’শ্রাম নেয়ার জন্য ঘু'ম ঘু'ম চোখে বি’ছা’না’য়। ই’মা’র’জে’ন্সি থেকে কল আ’সল।

চো’খের পাতায় ঘু'ম ঠেসে, ই’মা’র’জে’ন্সি’তে এসে চ’ম’কে যাওয়ার মত অবস্থা। ম’হি’লা রো’গী, পরনের চাদর র’ক্তে ভেজা। মুখের রঙ ফ্যা’কা’সে, সাদা। কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বি”য়ে হয়েছে। রো’গীর নাম রিমি(ছ’দ্ম না’ম)। হিষ্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে? রো’গী’র সাথে সদ্য বি’বা’হিত জা’মা’ই, জা এবং আরও ৪/৫ জন এসেছে।

ডাক্তারের প্রশ্ন শুনেই রো’গীর বর চো’রে’র মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রো’গী’র স’'ঙ্গে আসা এক ম’হি’লা তে’জে’র সাথে বলল, ‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব বলতে হইবো!’ ওদের গ্রামে গাছের মাথায় বা’ধা মাইকটিতে একটির পর একটি বি’য়ে’র গান বেজে চলছে। বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত। বর পক্ষের যারা এসেছে, কথা বার্তায় অ'ভিজাত ও ব্য’ক্তি’ত্ব দেখানোর চে’ষ্টায় ব্য’স্ত। দর ক’ষা’ক’ষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌ'’’তু’ক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নে’হা’ত’ই কম নয়।

কিন্তু কম হয়ে গেছে ক’নে’র ব’য়’স। বাচ্চা মে’’য়ে, নাম রিমি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে প’ড়ে’ছে। মে’য়ে’র বাবাও মো’টামুটি ভাবে লাল শাড়ি প’ড়িয়ে মে’য়ে’কে বি’দা’য় দিতে পেরে খুশি। মে’য়ে হলে তো বি’দা’য় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মে’য়ে’কে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শোনা যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল। বাড়ির উ’ঠোনে বসে মুখে পান চি’বোতে চিবোতে ছে’2লের মামা বলল, ‘এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া।

তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দো’ষ থাকলেও স’মস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাব'ে।’ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শে’ষে মে’য়েকে নিয়ে আসা হল তার নতুন ঘরে। যে মে’য়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বা”স’র রাত। পু’রুষতান্ত্রিক এই সমাজে স’তী’ত্ব যাচাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈ’ধতা মাত্র। সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মে’য়ের মতামতটা এখনও গৌন।

মে’য়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধ’মকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধ'ণ না বলে উপায় নেই। রিমির ইচ্ছে করছে, চি’ৎ’কার ক’রতে, কিন্তু বা”স’র ঘরে চি’ৎ’কা’র করা যে উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে রিমি। হাত পা ছুঁড়ে বরের লা”ল”সা”র যজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মি’’থ্যে চে’ষ্টা। সমাজ বিধীত ‘বর’, যখন আদিম পশুত্ব থেকে বাস্তবে ফি’রে আসে, তখন রিমি র’ক্তে ভেজা। তখনও ফিনকির মত র’’ক্ত যাচ্ছে।

ক্রমান্বয়ে সাদা ফ্যা’কা’সে হয়ে আ’সছে মুখের রঙ! রিমি এখন হাসপাতালের বেডে অ’চে’ত’ন হয়ে শু”য়ে আছে। তাকে যখন হা’সপা’তালে নিয়ে আসা হচ্ছে, রিমির চোখ প’ড়ে’ছি’ল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ও’পর। তারা যে কানাকানি করে কথা বলছিল, ব্য’'ঙ্গা’ত্ম’ক হাসি তামাশা করছিল। যেন সব দোষ রিমির। ল’জ্জা’য় কারও দিকে তাকাতেও ভ’য় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর প্র’চ’ণ্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মু’হূ’র্ত। কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন ডাক্তার এসে তার হাত ধ’রেছে।

মনে আছে শুধু এটুকুই। ডাক্তার নার্সকে সাথে নিয়ে, রিমি বেগমকে পরীক্ষা করলেন। ভ’য়াবহ রকমের পেরিনিয়াল টিয়ার (যৌ'’’না’’'ঙ্গ ও তার আশপাশ ছিঁ’’ড়ে গেছে)। তখনও র’’ক্ত যাচ্ছে প্রচুর। হাতে পালস দেখা হল। খুবই কম। জ’রুরি ভিত্তিতে রো’গী’কে র’ক্ত দেয়া দরকার। জ’রুরি অব’স্থায় অ’পারেশন করে ছিঁ’ড়ে যাওয়া অংশ ঠিক ক’রতে হবে। এই ভ’য়াবহ সং’কটাপ’ন্ন রো’গীকে নিয়ে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা কর্তব্যরত ডা’ক্তারের।

ম্যাডামকে ফোন করা হল… প্রাথমিক ভাবে ম্যানেজ করার জন্য র’ক্ত দরকার… রো’গী’র সাথে যারা এসেছে এতক্ষণ ইমা’রজেন্সি রুমের সামনে চিল্লা পাল্লা করছিল। ডাক্তার এসে জা’নালো জ’রুরি ভিত্তিতে র’ক্ত দরকার। তখন সবাই চুপ। কেউ কেউ কে’টে পড়ার জন্য পাশে সরে গেল। কিছুক্ষণ পর রো’গী’র লোক জা’নালো, তারা র’’ক্ত জোগাড় ক’রতে পারবে না। যা হয় হবে! ডাক্তার তাদের বুঝানোর চে’ষ্টা করলেন।

কিন্তু লাভ হল না… রাত সাড়ে তিনটায় ম্যাডাম আ’সলেন। তার ধ’ম’কে শে’ষ পর্যন্ত তারা র’’ক্ত জো’গাড় ক’রতে রাজি হল। কিন্তু র’ক্ত আর সেই রাতে জো’গা’ড় হল না। অ’পা’রে’শ’ন থি’য়ে’টা’রে রিমিকে নিয়ে গিয়ে টিয়ার রিপেয়ার করা হল। সকালে রো’গীর শ্বশুরবাড়ির লোক সবাই উধাও রিমির বাবা আ’স’লে’ন সেই ভোরে, র’’ক্ত জোগাড় হল কোন রকমে। ছয়দিন পর, রো’গীর সেপ্টিসেমিয়া ডেভলপ করলো।

ইনফেকশন র’’ক্তে ছ’ড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যান্টিবায়োটিক দরকার। রো’গীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার প’রা’ম’র্শ দিলেন, কোন স’র’কা’রি হা’সপা’তালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষধ কেনার খরচ কিছুটা বাঁ’চ’বে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কা’জক’র্ম রেখে একজনকে রো’গীর পাশে থাকতে হবে। রি’লিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চা’চ্ছেন, যা হবার হবে। রিলিজ নিয়ে রিমিকে বাসায় নেয়া হল।

আরও বেশি অ’সু’স্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হা’সপা’তালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খু’লে আবার ব’’ন্ধ করলো রিমি। সেই ব’’ন্ধ শে’’ষ ব’’ন্ধ। এই সমাজে’র প্রতি ঘৃ’ণায় চোখ জ্বল জ্বল করছিল কি না কেউ দে’খ’তে পারেনি। ভোরের স্বল্প আলোয় বি’দা’য় জা’নালো জীবনের নিষ্ঠুরতাকে! রিমি ‘একিউট রেনাল ফেইলরে’ মা’’রা গেছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রো’গী নিয়ে এত ঝামেলা ক’রতে পারবে না। শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই বা”স”র রাতের পর, কেউ আসেনি। তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ ম’র’লে দশটা বউ পাওয়া যায়! রিমি একা নয়, এ রকম ঘ’ট’না প্রায়ই দেখা যায়। এই ঘ’টনা গু'লো চক্ষু ল’জ্জা’র ভ’য়ে প্র’কাশ হয় না। কিন্তু সচে’ত’নতা জ’রুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
Jamunabarta24 © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz